মোঃ ইয়াছিন মিয়া:
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে টানা দুইবার নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে দেশব্যাপী আলোচনায় আসা সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারে থেকেও হঠাৎ মনোনয়ন কিনে সাক্কুর চমক সৃষ্টি করেছেন। বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে সক্রিয় থাকার মধ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের করে নতুন করে কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ২০২২ সালের কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কুকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ঢাকায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক এবং পরে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি ফের আলোচনার কেন্দ্রে আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন মনিরুল হক সাক্কুর প্রতিনিধিরা ।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মাস্টার, অজিত গুহ কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মিঠু, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আজাহার উদ্দিন বাপ্পি, ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কবির হোসেন মজুমদার, মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইকরাম হোসেন ইকু ও আব্দুল হালিম এবং যুবদল নেতা জুয়েল রানা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী। অন্যদিকে একই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, যিনি মনোনয়ন দাবিতে নিজ অনুসারীদের নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
সাক্কু ঘনিষ্ঠ একাধিক বিএনপি নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাজি ইয়াছিনের সঙ্গে সাক্কুর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বৈরী। সে কারণে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে এবারের নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রবীণ নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন। তবে মনোনয়ন ফরম কেনার ঘোষণা রাজনৈতিক চাপ ও মেরুকরণের অংশ বলেও মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
২০২২ সালের সিটি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় আজীবনের জন্য বহিষ্কৃত হন সাক্কু। ওই নির্বাচনে জয়ী হন নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রিফাতের মৃত্যুর পর ২০২৪ সালের ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন সাক্কু। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হন ডা. তাহসিন বাহার সূচনা। এদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই সাক্কুর দলে ফেরা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। গত ২৬ অক্টোবর ঢাকার গুলশানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠকে সদর আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি।
মনোনয়ন ফরম কেনা প্রসঙ্গে মনিরুল হক সাক্কু বলেন,‘মনোনয়ন কিনতে সমস্যা কোথায়? আমি এখনো মনিরুল হক চৌধুরীর জন্যই ভোট চাইছি। হাজি ইয়াছিনের চেয়েও বেশি মাঠে কাজ করছি। আজ সকালে প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি,তবে জমা দেব নিজে গিয়ে। তিনি আরও বলেন, হাজি ইয়াছিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাঁর জনপ্রিয়তার পরীক্ষাই হয়ে যাবে।
সাক্কুর ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন,‘মনোনয়ন ফরম কেনা সবার গণতান্ত্রিক অধিকার। দলীয় মনোনয়ন না পেলে কী করব, তা দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই জানাব।’এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন,মনোনয়ন ফরম কেনা সাক্কুর নিজস্ব কৌশল হতে পারে। তবে এটুকু নিশ্চিতভাবে বলতে পারি সে এখনো আমার পক্ষেই মাঠে কাজ করছে।’